দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জবাবদিহি জোরদারের লক্ষ্যে নতুন ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নীতিমালা’ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় করা যাবে না।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার এ নীতিমালা জারি করে।
টিউশন ফি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে বিধিনিষেধ
নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে—‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি গ্রহণ করা যাবে। এর বাইরে নতুন কোনো খাত তৈরি করে অর্থ আদায় করা যাবে না।
আয়-ব্যয়ে সরকারি বিধি অনুসরণের নির্দেশ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব আয়-ব্যয়ে প্রচলিত সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে হিসাব পরিচালিত হবে এবং আয়-ব্যয়ের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে।
কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, আর্থিক অনিয়মের দায়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধান যৌথভাবে দায়ী থাকবেন।
ব্যাংক হিসাব ও পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খুলতে হলে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংককে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ফি, দান-অনুদান ও সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয় নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব বা সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে (SPG) কিংবা সরকারি মালিকানাধীন অন্যান্য ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে নগদ অর্থ নেওয়া গেলে তা দুই কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
আয়-ব্যয়ের খাতে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত খাতে আদায়কৃত অর্থ যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমা দিতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়
এর আগে একই বিষয়ে রায় দিয়েছেন বাংলাদেশ হাইকোর্ট। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া রায়ে বলা হয়, একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত হলে তাদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারি পুনঃভর্তি ফি বাতিলের দাবিতে রিট দায়ের করে বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইড। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত এ রায় দেন।