ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান পবিত্র রমজান মাসকে অনুসরণ করে দেশবাসীর প্রতি সতর্ক ও নৈতিকভাবে দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাহে রমাদান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে এসেছে। এই মাসের শেষ ১০ দিনের মধ্যে রয়েছে পবিত্র লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। রমজান মাস হলো তাকওয়া, সহনশীলতা চর্চা এবং পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের সময়।
তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা অবিচার ও নিপীড়নের অবসান ঘটিয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পথে এগোতে শুরু করেছে। এমতাবস্থায় নাগরিকরা মৌলিক মানবাধিকার ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করছে।
জামায়াত আমির সতর্ক করেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশের আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে নতুন সরকারের নজর দেওয়া অত্যাবশ্যক। তিনি হাইলাইট করেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাজার স্বচ্ছ ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ স্বস্তির সঙ্গে সিয়াম পালন করতে পারে। প্রয়োজনে ভর্তুকির মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল, মাছ, গোশত, শাকসবজি, চিনি, খেজুর, ছোলা, মুড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে।
সাথে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দিনের বেলায় হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা এবং সব ধরনের অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি পবিত্র কোরআনের শিক্ষার আলোকে সমাজ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে রমজানকে আত্মশুদ্ধি ও প্রশিক্ষণের মাস হিসেবে গ্রহণ করার জন্য সাধারণ জনগণকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।